মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ফোন: 01831-513-188
মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকা

আজকের অভিভাবকদের প্রতি উন্মুক্ত চিঠি

আজকের অভিভাবকদের প্রতি

বিসমিহি তা‘আলা

একটি আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে এবং সঠিক দ্বীনী তা'লীম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি সন্তানকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তুলতে মাদরাসার পক্ষ থেকে সম্মানিত অভিভাবকদের প্রতি

উন্মুক্ত
       চিঠি

১. প্রিয় কলিজার টুকরা সন্তানকে আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে তোলা একজন অভিভাবকের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয় । কারণ একজন আদর্শ সন্তান পৃথিবীতে মা-বাবার চোখের শীতলতা এবং হাদিসের ভাষ্যমতে সাদকায়ে জারিয়া । সর্বোপরি আখেরাতে নাজাতের উসিলা। তাই আমাদের মাদরাসা এবং আপনার সন্তানের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করা চাই । কেননা দোয়া হচ্ছে আল্লাহ তাআলা থেকে চেয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

২. মাদরাসার মতো বাড়িতেও দ্বীনি পরিবেশ কায়েম করুন। নিজের ঘরবাড়ি, পরিবেশকে সমস্ত হারাম জিনিস / হারাম কাজ থেকে মুক্ত রাখুন ।

(যেমন : বাদ্যযন্ত্র, টেলিভিশন, নাজায়ের ছবি, জীবজন্তুর ভাস্কর্য , মিথ্যা, অপচয় ইত্যাদি) এবং ঘরের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল সা. এর সুন্নতের অনুসরণের চেষ্টা করুন। এর পাশাপাশি আমলের তৌফিক এর জন্য দোয়া করুন । নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার তৌফিক ছাড়া কেউ ভালো কাজ করতে পারে না।

৩. তালিমুল  মুতাআল্লিম কিতাবে উল্লেখ আছে যে, তিন ব্যক্তির মেহনত বা পরিশ্রম ছাড়া কোন ছাত্র আলেম হতে পারে না। 

    এক. উস্তাদের মেহনত      দুই. অভিভাবকের মেহনত                    তিন. ছাত্রের মেহনত

এই তিনটি মেহনতের কোন একটি কমতি হলে যেমন একজন ছাত্র আলেম হতে বাধা গ্রস্থ হয়, ঠিক তদ্রূপভাবে একজন আদর্শবান পিতা-মাতা যদি সে চায় তার ছেলেও আদর্শবান হোক তাহলে মাদরাসায় থাকাকালীন ওস্তাদগণ যেভাবে তার প্রতি খেয়াল রাখেন । ঠিক বাড়িতে যাওয়ার পর পিতা-মাতাও তার প্রতি ঐরকম খেয়াল রাখবে। এজন্য বাদশা সিকান্দার রহ. বলেছিলেন, তোমার পিতা মাতা তোমাকে আসমান থেকে চেয়ে এ জমিনে এনেছেন আর তোমার ওস্তাদ তোমাকে জমিন থেকে আসমানের মালিকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দিয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আর এ ব্যাপারে আমাদের সমাজে একটি প্রবাদ বাক্যও আছে, পিতা মাতায় বানায় ভুত আর ওস্তাদ বানায় পুত ।

৪. বর্তমান যুগে অধিকাংশ মাদরাসার ছাত্ররা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু গার্জিয়ানদের অতিরিক্ত মায়া মহব্বতের কারণে। কারণ তারা এত মায়া দেখাচ্ছে যে, একটি অনুষ্ঠানও বাদ দিচ্ছে না । ফলে বাচ্চার জীবন থেকে এলমে ওহীর মত নেয়ামত পলায়ন করছে।

৫. সন্তানকে নেককার ও আল্লাহ ওয়ালা  বানানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সকল নিয়ম কানুনের প্রতি নিজেও যত্নবান হন এবং আপনার সন্তানকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।

৬. ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে মাদরাসার একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটির সময় করার চেষ্টা করুন। মাদরাসা খোলা অবস্থায় ছুটির জন্য আবেদন না করার প্রতি প্রতিটি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ রইল।

৭. সন্তানের আচার - ব্যবহার , স্বভাব চরিত্রে কখনো কোন প্রকার সমস্যা তাহলে মহব্বতের সাথে সংশোধনের চেষ্টা করুন এবং আমাদেরকেও অবগত করুন যেন আমরাও সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে পারি।

৮. বাচ্চার সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ওস্তাদের কাছে (অফিসে) ছাত্রের পড়ালেখার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া এটি অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

৯. অভিভাবক ছাত্রের কোন প্রকার কথা শুনে ওস্তাদের প্রতি কোন রূপ খারাপ আচরণ না করা।  কারণ এতে বাচ্চার ভবিষ্যৎ একেবারেই নষ্ট হয়। বরং তার সম্মানের প্রতি খেয়াল রেখে কথা বলা।

১০. কোন হক্কানী আল্লাহ বলার সহবতে এবং দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথে নিজেকে ও পরিবারকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন এতে করে নিজের সন্তান হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এ সকল কথাগুলো মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন