মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ফোন: 01831-513-188
মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকা

মুলাযিমীনদের নিয়মনীতি

মুয়াল্লিম ও মুলাযিমগণের নিয়োগ পূর্ব নির্দেশনা:

মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দ্বীনি ইলমের ইশাআত এবং সৎ কর্মশীল হাফেজে কুরআন ও আলেমেদ্বীন তৈরী করা, যারা দেশ ও বিশ্ব ব্যাপী জনগণের দ্বীনি খেদমত এবং সাধারণ খেদমতসমূহ সু-শৃঙ্খলভাবে আনজাম দিবে এবং ইক্বামতে দ্বীনের জন্য ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া এর সঠিক ভূমিকা পালন করবে।
এই লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকায় মুয়াল্লিম ও মুলাযিম (উস্তাদ - শিক্ষক দায়িত্বশীল কর্মী) নিয়োগ করা হবে। যারা একনিষ্ঠভাবে মেহনত করে উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অগ্রগামী হবে। এ ক্ষেত্রে মুয়াল্লিম ও মুলাযিমগণ কেমন বৈশিষ্টের অধিকারী হবেন এর কিছু দিক - নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে নিচে দেয়া হলো।

১। উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মুয়াল্লিম ও মুলাযিম নিজ নিয়োজিত কাজে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সৎ ও কর্মঠ হবেন।
২। এক মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকা  প্রতিষ্ঠিত। অতএব মুয়াল্লিম ও মুলাযিম আপন কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা এবং মুদীর এর পরিকল্পিত নেযাম ও ইচ্ছা বাস্তবায়িত করবেন।

৩। চাকুরী নয় বরং খিদমত, চাকুরীজিবী নয় বরং দ্বীনের একজন বিশ্বস্ত খাদেম হিসেবে, প্রতিষ্ঠাতা এবং মুদীরের সহকর্মী ও সহযোগী হয়ে উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে স্বাধীনভাবে মেহনত করবেন।

৪। রাযযাক আল্লাহ তা’আলা, রিযিক তার হাতেই, শুধু শৃঙ্খলার জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আন্তরিকতা, কর্মতৎপরতা, সাংসারিক অবস্থা এবং মাদরাসার অবস্থা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ মুয়াল্লিম ও মুলাযিমের অযিফা / ভাতা নির্ধারণ করবেন।
৫। আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কখনও অলসতা ও অবহেলা করবেন না। কারণ এটা অনেক অনেক বড় একটি দায়িত্ব বা আমানত। অতএব আমানতের খেয়ানত হলে জবাবদিহীতার সম্মুখিত হতে হবে।

৬। তালিবে ইলমগণের জন্য মুয়াল্লিম ও মুলাযিমগণ দিক নিদর্শক তারকা - মাইল ফলক - আয়না স্বরূপ।  অতএব মুয়াল্লিম ও মুলাযিম তালিবে ইলমদের প্রতি ত্বাকওয়া পরহেযগারী উত্তম আখলাক সৎ চরিত্র, ভদ্র ব্যবহার, ন্যায় ও ইনসাফ, উত্তম আমল প্রদর্শন করবেন।

৭। এমন কোনো কর্ম বা আচরণ দেখাবো না, যা দ্বারা তালিবে ইলম প্রশ্রয় পায় এবং অন্যায়, পাপ, বে-আদবী ইত্যাদির সাহস পায়। যেমন আমলে অবহেলা - অলসতা মোবাইল ব্যবহারে অসতর্কতা বা অন্যায় পাপে লিপ্ত হওয়া। সময় অপচয় করা ও অপরিচ্ছন্ন  থাকা। সময়ের প্রতি যত্নবান না হয়ে রুটিন ও তারতীবে অবহেলা হওয়া। যেমন: নামায বা মাদরাসার অন্যান্য আমলে যত্নবান না হওয়া  ইত্যাদি।

৮। মাদরাসাতুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ ঢাকার মুদীর / পরিচালক মাদরাসার সকল বিভাগের দরস / তাদরীস ও তালীম, তারবিয়ত এবং মুয়াল্লিমীন ও মুলাযিমীনগণের প্রধান । অতএব, তার ফায়সালা - সিদ্ধান্ত সকলে নির্ধিধায় মেনে নিবেন এবং সে অনুযায়ী সুষ্ঠু ও সু-সৃঙ্খলভাবে কার্যাবলী আনজাম দিবে। মুদীরকে সকলে ব্যক্তিগতভাবে অথবা ইজতেমায়ীভাবে সঠিক মাশওয়ারা এবং সু-পরামর্শ দিবে। তবে এতে আদব ও শালিনতার সাথে সাথে পরিচালকের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে। যখন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, তখন তাতে কোনো প্রকার দ্বিমত পোষন না করে সেখানেই বিনা বাক্যে তা মেনে নিবেন।
৯। শিক্ষক নিয়োগ, বিয়োগসহ মাদরাসার সকল নিয়ম - কানুনের ব্যাপারে মুহতামিম বা পরিচালকের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।

১০।  মুয়াল্লিম ও মুলাযিমগণ কোনো সময় ছুটির প্রয়োজন হলে বা কোন বিশেষ জরুরতে বাহিরে যেতে হলে মুদীরকে অবশ্যই অবগত করতে হবে।

১১। মাসিক  বা পনের দিন অন্তর শিক্ষকদের পরার্মশ সভায় (সকলের) উপস্থিতি ও মতামত প্রদান করা আবশ্যক।

১২। কোনো বিভাগের ছাত্রের দ্বারা শারীরিক খেদমত নেয়া বা গ্রহন করা অথবা  অন্য কোন কষ্টদায়ক খেদমত ইত্যাদি নেয়া সম্পূর্ণরূপে নিষেধ এবং কোনো ছাত্র থেকে টাকা ধার নেয়া ও কোনো প্রকার খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না।

১৩। মাদরাসার কোনো ছাত্র যদি কখনও কোনো কারনে বহিষ্কার যোগ্য হয়, তাহলে অবশ্যই মুদীর / পরিচালক সাহেবকে অবগত করতে হবে।

১৪। ক্লাস চলাকালীন কোন শিক্ষক অপর কোনো শিক্ষক বা বহিরাগত ব্যক্তির সাথে কোন প্রকার আড্ডা দিতে পারবেন না।
১৫। যথাসম্ভব ছাত্রদেরকে বেত্রাঘাত না করে  আদর-সোহাগের সাথে পড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

১৬। ক্লাস বা সবক চলাকালীন সময় টাচ মোবাইল ব্যবহার করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।

১৭। কোনো শিক্ষক অন্য কোনো শিক্ষকের পরনিন্দা বা সমালোচনা কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না, অথবা কোনো ষ্টাফের সাথে কোনো ষ্টাফের কোনোরূপ ভুল বুঝাবুঝি থাকলে প্রধান পরিচালক /  শিক্ষকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মিটিয়ে নিতে হবে।
১৮। সবক ও কিতাব বন্টনের ব্যাপারে মুদীর / পরিচালক সাহেবের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত  সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।
১৯। ছুটি ও বন্ধের পর খোলার দিন সকল মুয়াল্লিম, মুলাযিমীনদের মাদরাসায় উপস্থিত থাকা আবশ্যক। উক্ত দিনে উপস্থিত না থাকলে  বন্ধের পুরো বেতন কর্তন করার অধিকার মুহতামিম সাহেবের থাকবে ।

২০। কোনো শিক্ষক নিজ অন্যায়ের কারণে যদি কর্তৃপক্ষের সিন্ধান্ত ছাড়া নিজেই চলে যান, তাহলে সে ঐ মাসের পুরো বেতনই পাবেন না।

২১। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যখন যা খাবারের ব্যবস্থা করবে তা আনন্দ চিত্তে গ্রহন করবেন এবং খাবারের ব্যাপারে কোনো প্রকার দোষ - ত্রুটি না খুঁজে  আল্লাহর নেয়ামত মনে করে খাবেন, অন্যথায় নিজের রুচি মতো খাবার খেতে চাইলে নিজেই ব্যবস্থা করে নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তা বহন করবে না।

২২। মাদরাসার ভিতরগত কোনো সমস্যা বা তথ্য বাহিরে প্রচার-প্রসার কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না।

২৩। মাদরাসার ভিতরগত  বা বহিরাগত কোনো জটিল সমস্যা দেখা দিলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে মুয়াল্লিম, মুলাযিমীনগণ জানাতে হবে।

২৪। প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার উন্নয়নে, প্রয়োজনে যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

২৫। কোনো শিক্ষার্থী অশুভ আচরণ প্রদর্শন করলে বা শিষ্ঠাচার বহির্ভুত কোনো কাজ করলে প্রধান শিক্ষককে অবশ্যই জানাতে হবে।

২৬। কোনো শিক্ষক যদি রাষ্ট্র, সমাজ বা ধর্ম বিদ্বেষী কর্মকান্ডে কখনো লিপ্ত হন, তবে কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করতে বাধ্য থাকবে।
২৭। যোগাযোগের জন্য দুটি মোবাইল নাম্বার (একটি নিজস্ব স্বচল নাম্বার ও অপরটি অভিভাবক বা নিকটতম রক্তের আত্মীয়) অফিস কক্ষে  জমা দিতে হবে।

২৮। কোনো শিক্ষক অন্য কোনো শিক্ষকের সাথে কোনো রকম টাকা-পয়সার লেনদেন করতে পারবেন না। করলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে করতে হবে।

২৯। প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের ১০-১৮ তারিখের মধ্যে প্রদান করা হবে ইনশাল্লাহ। তবে বেতন গ্রহনকালে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হবে।

৩০। প্রতি বছর নির্ধারিত বেতনের উপর ০৫% বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

উস্তাদদের নিকট মাদরাসা কর্তৃপক্ষের যা কাম্য তা হলো ,

১। কোন ছাত্রকে ভুল শিখাবেন না -------------- সঠিক শিখাবেন।                        

২। কোন ছাত্রকে অবহেলা করবেন না -------------- গুরত্ব দিবেন।                        

৩। কোন ছাত্রকে লজ্জা বা ভয় দেখাবেন না ----------------- সাহস যুগিয়ে উৎসাহিত করবেন।

৪। কোন ছাত্রের সাথে মিথ্যা বলবেন না -----------------  সত্য বলবেন।

৫। কোন ছাত্রের দ্বারা শারীরিক খেদমত না নেওয়া।    

৬। মাদরাসা পরিষ্কার/ পরিচ্ছন্নতা , লেখা পড়া ও দায়িত্বের ব্যাপারে খুবই যত্নবান হওয়া।

৭। দ্বীনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা ------------ অপরকে দেখানোর জন্য না করা।

৫ টি বিষয় উস্তাদ ও ছাত্র সকলের জন্য আবশ্যক।

১।  আমল                     ২। আখলাক                    ৩। পড়া-লেখা                 ৪। মাদরাসার নেজামর প্রতি গুরত্ব                         ৫। খেদমত

উপরোক্ত নির্দেশনা পড়ে এবং বুঝে এবং মান্য করার অঙ্গীকার করে মাদ্রাসাতুল কুরআন ওয়াস্সুন্নায় দ্বীনের তা’লীম ও তাদীবের খিদমতে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার জন্য জনাব মুদীরের নিকট আবেদন করছি।